সুলতান মাহমুদ,নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে যৌতুকের দায়ে গৃহবধুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে পাষন্ড স্বামী। রবিবার (১৪ ফেব্র“য়ারি) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গুমগুমিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেছে। ঘটনার পর থেকে পাষন্ড স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত ইসরাইল মিয়ার ছেলে শিপন মিয়ার সাথে প্রায় ৪ বছর পূর্বে একই গ্রামের ছনর মিয়ার কন্যা শেলী বেগম (২৫) এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর স্ত্রীর মধ্যে কহল চলে আসছিল। বিয়ের এক বছর পর তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
তাদের কহল নিয়ে একাধীকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সালিশ বৈঠক হয়। গত ১ মাস পুর্বেও শেলী বেগম ও তার স্বামীর সাথে ঝগড়া হলে বাবার বাড়ী চলে যায়। পরে স্থানীয় মুরব্বিয়ান বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি করে শেলী বেগমকে স্বামীর বাড়ি ফিরিয়ে দেন।
প্রতিদিনের ন্যয় রবিবার রাতে খাওয়া ধাওয়া শেষে স্বামী-স্ত্রী এক সাথে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমানোর মধ্যে কোন এক সময় স্ত্রী শেলী বেগমকে পাষন্ড স্বামী শিপন ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। সকালে শিপন মিয়ার ঘরের কোন লোকজনের সারাশব্দ না ফেয়ে প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন বিছানার মধ্যে গৃহবধূর রক্তমাখা নিথড় দেহ পরে আছে। সাথে সাথে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে খবর দিয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গৌর চন্দ্র মজুমদারের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেন।
শেলী বেগমের পিতা ছনর মিয়া কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে শেলী বেগমকে যৌতুকের জন্য তার স্বামীর বাড়ির লোকজন প্রায় সময়ই মারপিট করতো। তিনি বলেন “গভীর রাতে শিপন ও তার ভাইয়েরা মিলে আমার মেয়েকে ছুরিকাঘাত হত্যা করেছে।” এই কথা বলে তিনি বার বার মুর্ছা যান।
শেলী বেগমের মা সামছুন্নেহার বলেন, “আমার মেয়ে যৌতুকের জন্য তার স্বামীর বাড়ির লোকজন নিষ্ঠুরভাবে খুন করেছে, আমরা তার সঠিক বিচার চাই।”
নিহত শেলী বেগমের হৃদয় নামের ৩ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
থানার ওসি (তদন্ত) গৌর চন্দ্র মজুমদার জানান, “৪ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়েছিল, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে কলহ চলে আসছিল। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা যাচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা।”











